বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের লাশ অপসারনের দাবী সোনারগাঁবাসীর

6

সোনারগাঁ বার্তা ২৪ ডটকম: জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি মাজেদের লাশ দাফনে তার গ্রামের বাড়ী ভোলার বোরহান উদ্দিনে স্থানীয়দের কঠোর আপত্তি থাকায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে লাশ দাফন করা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকায় মাজেদের শ^শুর বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ১২টা ১ মিনিটে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরপর তার মরদেহ স্ত্রী সালেহা বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত ছিল মরদেহ মাজেদের জন্মস্থান ভোলায় দাফন করা হবে। কিন্তু সেখানে দাফন নিয়ে স্থানীয়ভাবে আপত্তি তোলায় মরদেহ নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁয়ে মাজেদের শ^শুর শামসুদ্দিনের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের লাশ সোনারগাঁয়ে রাতের আধাওে দাফন করার খবর সকালে ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠে। এ সময় তারা বিক্ষোভ মিছিল করে দ্রæত খুনি মাজেদের লাশ কবর থেকে তুলে নিয়ে অপসারন করে অন্যত্র মাটি দিয়ে সোনারগাঁয়ের মাটিকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবি জানান।
এ সময় বক্তব্য দেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সোনারগাঁ শাখার সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজ¦ী মোতালিব, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাসেল মাহামুদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকমান্ড সোনারগাঁ শাখার সভাপতি মেহের নিগার সোনিয়া প্রমূখ।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সোনারগাঁ শাখার সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের লাশ কোনো অবস্থাতেই সোনারগাঁয়ের মাটিতে রাখতে চাইনা। অবিলম্বে এই লাশ উঠিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে দাফন করা হোক। এই লাশ এখানে রেখে সোনারগাঁয়ের মাটিকে কলঙ্ক করতে দেওয়া হবেনা।
স্থানীয় রামগোবিন্দেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আক্তারুজ্জামান জানান, আজ সকালে জানতে পারি রাতে একটি লাশ দাফন করা হয়েছে। পরে একজন রিক্সাচালকের কাছে জানতে চাইলাম এখানে করোনা আক্রান্ত রোগী দাফন করা হয়েছে। পরে স্থানীয় খাদেমের কাছে জানতে পারলাম বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের লাশ দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয় সাতগ্রাম কবরস্থানের খাদেম মোস্তফা মিয়া বলেন, রোববার রাত ৩টায় একজন লোক এসে আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বলে খুনি মাজেদের জানাযায় অংশ নিতে পরে তিনি আপত্তি জানালে তাদেও সঙ্গে প্রশাসনের লোক ও আছে জানালে তিনি তাদেরকে বাশঁ দিয়ে চলে আসেন।
প্রসঙ্গত:, বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত মাজেদ ২৩ বছর ধরে পলাতক থাকলেও ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে রিকশায় ঘোরাঘুরির সময় তাকে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

6