মামুনুল হক আটক, পরে মুক্ত

6
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার একটি রিসোর্টের কক্ষে এক নারীসহ হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের প্রায় দুই ঘন্টা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে রাখার পর স্থানীয় মাদ্রাসা ছাত্র শিক্ষক ও হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা রির্সোটটিতে ব্যাপক ভাঙচুর করে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে ও সরেজমিনে দেখা যায়, সোনারগাঁয়ের অভিজাত রিসোর্ট রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। বিষয়টি খবর পেয়ে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা রিসোর্টের নিচে অবস্থান নেয়।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম মোস্তাফা, থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) তবিদুর রহমান সহ একদল পুলিশ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রিসোর্টের ৫ম তলায় তার কক্ষের সামনে যায়। মামুনুল হককে আটক করে তার বিচারের দাবিতে পুলিশের সামনে নেতাকর্মীরা নানা ধরনের শ্লোগান দেওয়ার পর মামুনুল হক কক্ষ থেকে একা বের হয়ে আসেন। এ সময় মামুনুল হকের কক্ষের ভেতরে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করেন।

পুলিশ গণমাধ্যমকর্মী ও নেতাকর্মীরা মামুনুল হকের কক্ষে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে ওই নারী বাথরুমে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এসময় নেতাকর্মীরা মামুনুল হককে মারধর করার চেষ্টা করলে তিনি পুলিশের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আমার সঙ্গে অবস্থান করা নারী আমার দ্বিতীয় স্ত্রী, তার নাম আমেনা তৈয়বা।

বিয়ের কাবিন নামা আছে কিনা জানতে চাইলে মামুনুল হক সাংবাদিকদের জানান, আমি কাবিন নামা করিনি, সে আমার বৈধ স্ত্রী। প্রমান রয়েছে।

পরে ওই কক্ষে প্রবেশ করেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টি.আই মোশারফ হোসেন। তিনি নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের কক্ষ থেকে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক ও হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা রয়েল রিসোর্টের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে “মামুনুল হকের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে” সহ নানান ধরনের শ্লোগান দেয়। হেফাজত নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা রিসোর্টের দ্বিতীয় ফটক দিয়ে চলে যায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে হেফাজত কর্মীরা স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক দিয়ে লাটি হাতে বিক্ষোভ মিছিল করে রির্সোটের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে রিসোর্টের প্রধান ফটক ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে রিসোর্টের নিচ তলা সহ বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করলে এক পর্যায়ে প্রায় দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মামুনুল হককে পুলিশ রিসোর্টের অভ্যর্থনা কক্ষে নিয়ে আসে। এসময় কয়েক হাজার হেফাজত কর্মী রিসোর্টটি ভাঙচুর অব্যাহত রেখে মামুনুল হককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয় মোগরাপাড়া চৌরাস্তার পাশে হাবিবপুর ঈদগাহ ও মসজিদে নিয়ে আসেন। ঈদগাহে মাঠে মামুনুল হক হেফাজত কর্মীদের সামনে বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ে বেড়াতে এসেছিলাম। মানুষের ভিড় এড়াতে স্থানীয় কোনো নেতাকর্মীকে বিষয়টি অবগত করিনি। আমার সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে খারাপ আচরন করেছে। সরকারের গভীর ষড়যন্ত্রের এটি একটি অংশ। এসব ষড়যন্ত্র করে কেউ আমাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে পারবে না।

এ দিকে রাত ৮টায় হেফাজতকর্মীরা আবারো দ্বিতীয় দফায় রয়েল রির্সোটে গিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীদের দাবি হুজুরের স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে হবে। ব্যাপক ভাঙচুরের এক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টি.আই মোশারফ হোসেন ওই নারীকে নিয়ে পাঁচ তলা থেকে নিচে স্থানীয় হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীদের জিম্মায় ওই নারীকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

মানুনুল হক ও নারীকে ছেড়ে দেওয়ার পরে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে প্রায় আধা ঘন্টা বিক্ষোভের পর নেতাকর্মীরা চলে যায়।

6