ধানক্ষেতে শিশু হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৪ আসামি গ্রেফতার

6

সোনারগাঁ বার্তা ২৪ ডটকম: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের নয়ানগর এলাকার ধানক্ষেতে ১০ বছর বয়সী শিশু রিমন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।

গত রোববার সোনারগাঁয়ের নয়ানগর এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- ইমন মিয়া (১৭), মোঃ আল-আমিন (৩৫), মোঃ আনোয়ার হোসেন বাবু (২৫) এবং মোঃ মানিক মিয়া (৪২)।

সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, গত ১৬ এপ্রিল বিকালে ভিকটিম মোঃ জুনায়েদ হাছান রিমন বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার জন্য বাসা থেকে বের হয়। তারপর থেকে রিমন আর বাসায় ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি। পরদিন ১৭ এপ্রিল সকালে নয়ানগর এলাকার একটি ধান ক্ষেতে রিমনের লাশ পাওয়া যায়। পরে রিমনের পিতা বাদী হয়ে ১৭ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামলা (৪০) দায়ের করেন। পিবিআই নারায়ণগঞ্জ গত ২৩ এপ্রিল মামলাটি গ্রহণ করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করে।

তিনি আরো জানান, হত্যাকান্ডের ২ দিন আগে বৃহস্পতিবার গ্রেফতারকৃত আসামি আল-আমিনের ভাইয়ের ছেলের সাথে মৃত ভিকটিম জুনায়েদ (রিমন এর খেলার ছলে ইটের টুকরা দিয়ে ঢিল ছোড়াকে কেন্দ্র করে বিবাদ হয়। ওই বিবাদ একপর্যায়ে বড় পর্যায়ে চলে যায়। পূর্বকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গ্রেফতারকৃত আসামি আল আমিন এবং তার ভাই অপর আনোয়ার হোসেন বাবুর মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার আগের দিন দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামি আল-আমিন এবং তার ভাই অপর আনোয়ার হোসেন বাবু শিশু ইমন (১৭) কে এক হাজার টাকার প্রলোভনে মৃত ভিকটিম জুনায়েদ রিমনকে খেলার ছলে একা নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজী করে।

অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মৃত ভিকটিম জুনায়েদ হাসান রিমনকে চক থেকে খানিকটা দূরে ধানক্ষেতের আইলে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকেই অপেক্ষায় থাকা আসামি আল-আমিন এবং তার ভাই অপর আসামী আনোয়ার হোসেন বাবু অবস্থান করছিল। ভিকটিম জুনায়েদ হাসান রিমন তাদের কাছাকাছি আসলেই আসামি আল-আমিন তার কোমর থেকে গামছা বের করে মৃত ভিকটিম জুনায়েদ হাসান রিমনের মুখ চেপে ধরে এবং সাথে সাথে অপ্রাপ্তবয়স্কআসামি ইমনের হাতে থাকা চাকু নিয়ে মৃত ভিকটিম জুনায়েদ হাসান রিমনের গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে।

মামলার পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

6