মামুনুল হকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী ঝর্ণার সোনারগাঁ থানায় মামলা 

6
সোনারগাঁ বার্তা ২৪ ডটকম: হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হক নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে নারীসহ ঘেরাও হওয়ার পর ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করলেও ওই নারী তা অস্বীকার করে। আজ মামুনুল হকের বিরুদ্ধে প্রতারনা ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আজ সন্ধায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার কামারগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ওলিয়ার রহমানের মেয়ে জান্নাত আরা ঝর্ণা (২৭) সোনারগাঁ থানায় উপস্থিত হয়ে মামুনুল হক কে একমাত্র আসামি করে একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। অভিযোগ পত্রে মামলার বাদি জান্নাত আরা ঝর্না উল্লেখ করেন তার সাবেক স্বামী মাওলানা শহীদুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে ২০০৫ সালে মামুনুল হকের সাথে তার পরিচয় হয়।
 মামুনুল হকের সাথে পরিচয়ের আগে তাদের দুই সন্তান আব্দুর রহমান (১৭) ও মোহাম্মদ তামিম (১৩) সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবন চলছিল, পরিচয়ের পর থেকে মামুনুল হক তাদের বাসায় (ঝর্নার) অবাধ যাতায়াত করার এক পর্যায়ে মামুনুল হকের খারাপ দৃষ্টি পড়ে তার উপর, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ছোট খাটো মতানৈক্যের মধ্যে কৌশলে প্রবেশ করে মামুনুল হক স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দুরুত্ব সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে মামুনুল হকের কুপরামর্শে ২০১৮ সালের ১০ আগষ্ট আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর আমার অসহায়ত্বের সুযোগে মামুনুল হক আমাকে ঢাকায় নিয়ে আসে পরে তার পরামর্শে আমি ঢাকার কলাবাগানে সাবলেট হিসেবে ভাড়া নিয়ে একটি বাড়িতে বসবাস করতে থাকি এবং একটি পার্লারে কাজ শিখতে থাকি,আমার বাসা ভাড়া ও ভরণ পোষন বহন করেন মামুনুল হক, এক পর্যায়ে সে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
গত দুই বছর ধরে ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরা ঘুরির নাম করে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে নিয়ে রাত্রী যাপন ও বিবাহের আশ্বাস দিয়ে যৌন লালসা চরিত্রার্থ করে। সর্বশেষ গত ০৩ এপ্রিল সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে ।
মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করার পর মামলার বাদি জান্নাত আরা ঝর্ণা বলেন, মামুনুল হক দীর্ঘদিন ধরেই আমার সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। আমি রাষ্ট্রের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই। 
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ)  আমীর খসরু বলেন, সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে বাদির সঙ্গে মামুনুল হক প্রতারণা করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ৩০ ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯ এর ১ ধারা মামলাটি তদন্ত করবেন সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত)  শফিকুল ইসলাম।
 
এদিকে মামলা হওয়ার পর সোনারগাঁ থানার পুলিশ ঝর্ণাকে মেডিক্যাল টেস্ট করার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
6